বুধবার, ২৪-অক্টোবর ২০১৮, ০২:৪১ পূর্বাহ্ন

বাংলাদেশের জন বিস্ফোরণ সমস্যা

Shershanews24.com

প্রকাশ : ১২ জুলাই, ২০১৮ ০৭:৩৭ অপরাহ্ন

সৈয়দ আব্দুল হান্নান আল হাদী: একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দুই সাবেক প্রধান যথাক্রমে জেনারেল এইচ এম এরশাদ ৫ জুলাই, ২০১৮ এবং জেনারেল মাহবুবুর রহমান ১লা জুলাই, ২০১৮ বাংলাদেশের জনসংখ্যা বিস্ফোরণের উপর পৃথক দুইটি প্রবন্ধ লিখেছেন। তার মোদ্দা কথা হলো বাংলাদেশের জনসংখ্যা প্রতি বছর ১.৩% হইতে ১.৬% বেড়ে যাচ্ছে। এভাবে বাড়তে থাকলে ২০৫০ সালে বাংলাদেশের জনসংখ্যা হবে প্রায় ২৬ কোটি। দেশের ১,৪৭,০০০ বর্গকিলোমিটার বা ৫৫,০০০ বর্গ মাইলের জায়গার মধ্যে এত লোকসংখ্যার খাদ্য, বাসস্থান, যোগাযোগ, স্বাস্থ্য ও শিক্ষার ব্যবস্থা করা অসম্ভব হয়ে পড়বে। ফলে দেশে দুর্ভিক্ষ, আইন শৃংখলা পরিস্থিতির অবনতিতে গবেষণাগারের ইঁদুরের বংশ বৃদ্ধির ফলে যেমন- ছোট ও স্ত্রী ইঁদুর গুলো মারা পড়ে তেমনই আমাদের নারী ও শিশুরাও গণ হারে মারা পড়বে। অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে। তাই দেশের ১ নম্বর সমস্যা হিসেবে বিবেচনা করে এখনই এ জনবিস্ফোরণ ঠেকাতে হবে। প্রয়োজনে চীনের মত ১ দম্পতি ১ সন্তান এই নীতি অবলম্বন করা দরকার। 
এখানে ইঁদুরের বংশ বিস্তারের সাথে মানুষের বংশ বিস্তারের তুলনা করা যায় না, কেননা মানুষ আল্লাহ্র সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টি বা আশরাফুল মাখলুকাত। মানুষের জন্ম মৃত্যু আল্লাহ্ মর্যাদার সাথে নিয়ন্ত্রণ করে থাকেন।
তুরস্কের জনপ্রিয় প্রেসিডেন্ট এরদোগান কিছুদিন আগে বলেছেন, মুসলমানদের জনসংখ্যা বৃদ্ধি করতে হবে। জন্ম নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না। ড. মাহাথির মোহাম্মদও মালয়েশিয়ার জনসংখ্যা বৃদ্ধি কোন সমস্যা হিসেবে স্বীকার করেন নি। তিনি তার ২৩ বছরে দেশের উন্নয়ন করে দেখিয়েছেন তার দেশে আরোও ১ কোটি শ্রমিক আমদানি করলেও তাদের উন্নয়ন যথাযথ ত্বরান্বিত হবে না এবং কোন সমস্যাও হবে না। বর্তমানে এ পর্যন্ত ৪০ লক্ষ শ্রমিক বাংলাদেশ থেকে নেওয়ার কথা হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় ১০ লক্ষ বৈধ শ্রমিকভাবে সে দেশে গেছে এবং প্রায় চার লক্ষ অবৈধ শ্রমিক এখনও সে দেশে আছে। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগান বলেছেন তুরস্কের জনসংখ্যা বৃ্িদ্ধ করা দরকার। পুরো মধ্যপ্রাচ্যে আল্লাহর শত্র“ মুসলিম বিদ্ধেষী আমেরিকা ও তার মিত্রদের হাতে এ পর্যন্ত প্রায় সোয়া কোটি মুসলিম নিহত হয়েছেন এবং ১২ কোটি লোক গৃহহারা হয়েছেন। প্রতিদিন এ মিছিল বৃদ্ধি পাচ্ছে। তুর্েস্ক আমেরিকার চর গুলেনের অভ্যূত্থান প্রচেষ্টা সফল হলে প্রায় ১ কোটি মুসলমান মারা পড়তো। 
 মিয়ানমার প্রায় ১২ লক্ষ রোহিঙ্গা মুসলমান বাংলাদেশে ঠেলে দিয়েছে। অথচ মায়ানমারের বিস্তীর্ণ বনাঞ্চল ও বিরান ভূমি এখনও অবাসযোগ্য হয়ে আছে। ভারত আসাম থেকে প্রায় নব্বই লক্ষ মুসলমান বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার পাঁয়তারা করছে। আমাদের নাস্তিক বুদ্ধিজীবীদের এসব দেশে ধর্ম নিরপেক্ষতার সবক দেওয়ার জন্য পাঠানো  দরকার। তারা ব্যর্থ হলে তাদের খাঁটি মুসলমান হওয়া দরকার। এদেশে প্রায় ১ কোটি হিন্দু ও ১০ লক্ষ বৌদ্ধ শান্তিপূর্ণ ভাবে বসবাস করছে। আমাদের গোয়েন্দা ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে হবে। ১০ দিনে ৬ লক্ষ রোহিঙ্গা মায়ানমার সেনাবাহিনী জোর করে পাঠালো অথচ আমাদের গোয়েন্দারা কোন খবর রাখল না ও কোন ব্যবস্থাও গ্রহণ করতে পারল না। আমেরিকা ও তার মিত্র রাষ্ট্র ও ইহুদীরা বিশ্বে কি পরিমাণ মুসলমান হত্যার পরিকল্পনা করছে ও তাদের সম্পদ লুণ্ঠনের ব্যবস্থা করছে তা আমরা জানি না। যদি তারা নার্ভ গ্যাস, জীবাণু অস্ত্র, ক্যামিকেল অস্ত্র ও পারমাণবিক অস্ত্র প্রয়োগ করে তবে কত কোটি মুসলমান নিহত হবে তার হিসাব নেই।
এখন জনসংখ্যার ব্যাপারে পৃথিবীর সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার অভিমত কি? তিনি পবিত্র কোরআনে বলেছেন আমি মানুষের রিজিকের ব্যবস্থা করে থাকি। তোমরা রিজিকের ভয়ে মানুষ হত্যা করো না (বা জন্ম নিয়ন্ত্রণ করো না)। নবী করিম (স:) বলেছেন, তোমরা আদল বা জন্ম নিয়ন্ত্রণ করলেও আল্লাহ্্ তায়ালা যে পরিমাণ মানুষ দুনিয়াতে পাঠাবার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সে পরিমাণ লোকই পাঠাবেন (আল হাদীস)। মুসলমান ও ইসলামের শত্র“রা মুসলমানদের নিশ্চিহ্ন করতে পারবে না। ক্ষতি করতে পারবে আমাদের মুনাফেকি ও অসতর্কতার জন্য।
এখন আসি জন  বিস্ফোরণ সমস্যার সমাধান কি ভাবে করা যায় ঃ-
১ম ব্যবস্থা: বাংলাদেশের বসবাসযোগ্য ভূমি বৃদ্ধি করতে হবে। স্যাটেলাইটের মাধ্যমে দেখা গেছে বাংলাদেশের প্রায় অর্ধেক পরিমাণ ভূমি বঙ্গপোসাগরে জেগে উঠছে। এর গড় গভীরতা প্রায় দুই মিটার। সিঙ্গাপুর তার সমপরিমাণ ভূমি সমুদ্র থেকে রিক্লেইম করেছে।
আমাদের এ দু’মিটার ভরাট করলেই আমরা আরও ৮ কোটি লোকের বাসস্থান ও কর্মসংস্থান করতে পারবো। কিছু দিন আগে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনষ্টিটিউশনের এক সেমিনারে পানি ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞ ড. এস আই খান দেখিয়েছেন “বে ক্রস ড্যাম” দ্বারা কয়েক বছরেই ভরাট করে বঙ্গপোসাগর থেকে এ ভূমি উদ্ধার সম্ভব। এ ব্যাপারে জাপান অর্থ ও কারিগরি সাহায্য দিতে আগ্রহী।
২য় ব্যবস্থা: দেশের আভ্যন্তরীণ নদীগুলোর তীর বেধে দিলে নদীগুলোর দুতীরে প্রচুর পরিমাণ কৃষিযোগ্য ভূমি উদ্ধার করা সম্ভব, এতে বাংলাদেশের ২ কোটি লোকের বাসস্থান ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে। এ ব্যবস্থায় মালয়েশিয়া উপকৃত হয়েছে।
৩য় ব্যবস্থা: বাংলাদেশের পার্বত্য অঞ্চলে লোকসংখ্যা অত্যন্ত কম। ঘন বসতি পূর্ণ এলাকা থেকে আরোও লোকের কর্মসংস্থান ও কৃষি কর্মসংস্থান এখানে করা যেতে পারে। এরশাদের মনে রাখা দরকার তার বৃহত্তর রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলে বৃহত্তর ময়মনসিংহ-টাঙ্গাইল ও পাবনা অঞ্চলের প্রচুর লোক বসবাস করার জন্য বৃটিশ ও পাকিস্তান আমলে স্থান নিয়েছে। মূলত: তারাই বিরান এ অঞ্চলের ভূমি চাষাবাদ ও বসবাস যোগ্য করেছে।
৪র্থ ব্যবস্থা: বর্তমানে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির ফলে পৃথিবী একটি গ্লোবাল ভিলেজে পরিণত হয়েছে। এখন সহজেই দেখা যায়, কোথায় লোক বসতি কম, কোথায় কৃষিযোগ্য ভূমি আছে। কোথায় খনিজ সম্পদ, বনজ সম্পদ আছে অথচ লোকের অভাবে এগুলো আহরণ ও বাজারজাত করা যাচ্ছে না; এগুলো যথাযথ জরিপ করে ঘন বসতিপূর্ণ এলাকা থেকে লোকজনকে বিরান অঞ্চলে স্থানান্তর করা যেতে পারে। আফ্রিকার বহু জায়গা, আরবের মরু অঞ্চল, রাশিয়া, কানাডা ও অষ্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ডের বসতি হীন বিস্তীর্ণ এলাকায় আমাদের দেশের লোকের কর্মসংস্থান ও বসবাসের জন্য দেন দরবার করা যেতে পারে। বিশ্ব মানবাধিকারের মধ্যে মানুষের যে কোন স্থানে কাজ পাওয়ার ও বসবাসের অধিকার স্বীকৃত। ঐসব দেশে বর্তমানে ১০ থেকে অনধিক ১০০ জন লোক প্রতি বর্গ মাইলে বসবাস করছে।
আমাদের মনে রাখতে হবে আমরা যেন উন্নত দেশের পরীক্ষার ও বাণিজ্যের গিনিপিগে পরিণত না হই। আমাদের দেশের আমলারা অধিকাংশ ও অনেক রাজনীতিবিদ অসৎ। তাদের মধ্যে অনেকে অর্থের বিনিময়ে মীর জাফরের মত দেশের স্বাধীনতা বিকিয়ে দিতে পারে। দেশের ঘুষ-দূর্নীতি বন্ধ করলে সাশ্রয়ী অর্থ দিয়ে এ দেশে আরোও বহু লোকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা যায়। দেশে প্রায় ৩ কোটি শিক্ষিত বেকার আছে, তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। খাদ্যে ভেজাল, ওষুধে ভেজাল, প্রতিটি পণ্যে ভেজাল ঠেকাতে হবে। মাদকের ব্যবহার সারা দেশের যুব সমাজকে ধ্বংস করে দিচ্ছে- এটা রোধ করতে হবে। ব্যাংকের লক্ষ কোটি টাকা লুটপাট করা হচ্ছে। ব্যাংক লুটের জন্য জনাব নুরে আলম সিদ্দিকী সরকার প্রধান ও অর্থ মন্ত্রীকে পল্টন ময়দানে ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদন্ডের কথা বলেছেন। দেশ থেকে ছয় লক্ষ কোটি টাকা পাচার হয়েছে। এ সব টাকা ফেরত আসলে শ’ শ’ শিল্প কারখানা করা যায় এবং কোটি লোকের কর্ম সংস্থানের ব্যবস্থা হয়, সেই সঙ্গে বঙ্গোপসাগরের ভূমি উদ্ধারও করা যায়।
শীর্ষনিউজ/ওআর