জাপানের পাহাড়ে আনন্দ ভ্রমণ
০৯:১৬ পূর্বাহ্ন রবিবার, ২৭-মে ২০১৮

জাপানের পাহাড়ে আনন্দ ভ্রমণ

প্রকাশ : ০৮ মে, ২০১৮ ০৯:০০ অপরাহ্ন

মাহবুব মাসুম, টোকিও (জাপান) থেকে: দূর প্রবাসে কাজ করতে করতে সবাই ক্লান্ত। মাঝে মাঝেই মনে হয়, দূরে কোথাও হারিয়ে যেতে পারলে মন্দ হতো না! জাপানে থেকে যখন অপরূপ সুন্দর্যময় পর্যটন স্পট গুলো গুগলে কিংবা কারোর ফেসবুক ওয়ালে ভ্রমণের ছবি দেখি তখন মনে একটা বড় ধাক্কা লাগে। বিশাল পাহাড়, ঝর্ণার স্বচ্ছ পানি, নানা ফুলের বাগান আর সাজানো গোছানো প্রযুক্তিনির্ভর রাস্তা-ঘাট দেখে মন যেন কিছুতেই মানে না। বরফে ঢাকা পর্বত চূড়া কিংবা সাগর আর লেকের ছবি দেখলে তো মনে হয় আজীবন সেখানে গিয়ে বসে থাকি! চারিদিকে সমুদ্রবেষ্টিত পাহাড়-পর্বতে ঘেরা সুন্দর এ দেশটির প্রকৃতির সবকিছুই দেখার মতো। সত্যি কথা বলতে ছবির মতো দেশ জাপান। মে মাসের প্রথম সপ্তাহ সেই স্বপ্ন সত্যি হলো। জাপানে এ সপ্তাহকে গোল্ডেন উইক বলা হয়। সবার ছুটি! তাই আমরা যারা বাংলাদেশী সবাই মিলে ঘুরে বেড়ানোর স্থান ঠিক করা হলো সাইতামার ওগাওয়া গেনকি রিসোর্ট ও সাইতামা সিটির নানা দর্শনীয় পর্যটন স্পট। যেই কথা সেই কাজ। তিন মে তিন দিনের জন্য পাহাড়-ঝর্ণা আর ফুলের রাজ্যে ঘুরাঘুরি। আহা কি যে আনন্দ আকাশে বাতাসে! প্রতিবছরের মতো এবারো তিন মে (বৃহস্পতিবার) প্রায় তিন শতাধিক বাংলাদেশী পরিবারসহ জাপানের নানা প্রান্ত থেকে সাইতামার ওগাওয়া গেনকি রিসোর্টে হাজির। সকাল ১০টায় পৌঁছে মনে হলো বাংলাদেশের কোনো রিসোর্টে চলে এসেছি! সবাই বাংলায় কথা বলছে। আড্ডা দিচ্ছে। ছবি উঠাচ্ছে। হাসি-ঠাট্টা হচ্ছে। এ যেন এক অন্যরকম পরিবেশ। মজার বিষয় হলো পুরো রিসোর্টটা ভাড়া নেয়া হয়েছিল। আমাদের চাল-চলন দেখে রিসোর্টে জাপানি দায়িত্বরতরাও অবাক।
টানা তিন দিন ঘুরাঘুরি। রাতে জমজমাট সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সবাইকে মাতিয়ে রেখেছে। পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত ওগাওয়া গেনকি থেকে পুরো সাইতামা শহরটি দেখা গেছে। হাজার মিটার উচু এ পাহাড় কখনো মেঘের সঙ্গে আলিঙ্গন। আবার কখনো বৃষ্টির পানি ধুয়ে দিয়েছে পাহাড়ের শরীরটা।
ঘুরতে ঘুরতে ক্লান্ত দেহে পাহাড়ের কোন এক স্থানে একসাথে বসে খাবার খাওয়া যেন বাংলাদেশের অতীত বনভোজনকেই মনে করিয়ে দিয়েছে। পাহাড় অভিযানের প্রথম ও দ্বিতীয় দিন পাহাড়ের আনাচে কানাচে যাওয়া হয়েছে। দেখা হয়েছে গাড়ী তৈরীর বিশ্বখ্যাত হোন্ডা কোম্পানির বিশাল ফেক্টরি। যেখানে তৈরী হচ্ছে হাজারো গাড়ী। তাক লাগানো প্রযুক্তির মাধ্যমে কাজ করছে হাজারো শ্রমিক। ঠিক পাহাড়ের মাঝখানে বিশাল জায়গা নিয়ে এটি অবস্থিত। তৃতীয় দিনে অর্থাৎ শেষ দিনে ফুলে ফুলে সাঝানো সাইতামার হিৎসুজিয়ামা ফ্লাওয়ার পার্ক। নাগাতরো পর্যটন কেন্দ্র যেখানে পাহাড় আর ঝর্ণার অপরূপ মিলন ঘটেছে সেখানে যাওয়ার সুযোগ হয়েছে।
সব মিলিয়ে এ এক অন্যরকম অভিজ্ঞতা। এ ভ্রমণে রাতে মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপহার দিয়েছে দিশারী শিল্পীগোষ্ঠী। এছাড়া সাইতা সাকুরার শিশু শিল্পীরাও নানা রকম গান ও বাংলার চিরায়ত সংস্কৃতি সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছে।
এ বৃহৎ আয়োজন যাদের পরিশ্রমে স্বার্থক হয়েছে তাদের মধ্যে বিশিষ্ট গাড়ী ব্যবসায়ী এটিএম মিসবাহুল কবির ভাই, আলাউদ্দিন ভাই ও হাফেজ ছাবের আহমেদ ভাই এর প্রাণান্তকর চেষ্টা। এছাড়াও কষ্ট করেছেন মঈন আহমেদ, আব্দুল মোমেন, সোহাগ সিদ্দিকী, মোস্তফা, সাংবাদিক আতিকুর রহমান ও আব্দুল্লাহ আল মারুফ ভাই অন্যতম।       
ফেরার পথে কেমন যেন সবার মন খারাপ! আবার যান্ত্রিক জীবনে ফেরা। এক গাধা কাজ। জাপানিরা তো কাজ ছাড়া কিছু বুঝে না। নিখুত কাজ, নিপুন প্রযুক্তি, সততা আর দায়িত্ববোধ তাদেরকে বিশ্ব সেরা করেছে। যাইহোক আবার কবে ফিরবে সেই কাঙ্খিত মে। আবার কবে হারিয়ে যাবো অন্য কোন শহর-নগর-গ্রাম বা পাহাড়-সমুদ্রের তীরে। সেই প্রত্যাশায় সবার বাড়ি ফেরা।
 
masum86cu@yahoo.com
+8107041063143