মরার উপর খাড়ার ঘা !
০৯:১২ পূর্বাহ্ন রবিবার, ২৭-মে ২০১৮

মরার উপর খাড়ার ঘা !

প্রকাশ : ১৮ জানুয়ারী, ২০১৮ ০৯:২১ অপরাহ্ন

ডি. হুসাইন: মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও পুলিশের হত্যা-নির্যাতনের মুখে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে রোহিঙ্গা শিশু, বৃদ্ধ ও নারীরা। কতটা অসহায় ও নিদারুণ পরিস্থিতির শিকার হলে দেশান্তর হতে হয় তা পাঠক মাত্রই অনুমেয়। তাছাড়া রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর উপর মায়ানমার সরকার ও সরকারি বাহিনীর নৃশংস নির্যাতনের যে ভিডিও এবং স্থির চিত্র আমরা বিভিন্ন গণমাধ্যমে অবলোকন করেছি সেটি যে কতটা হৃদয়বিদারক, তা বলার অপেক্ষা রাখেনা। আর কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের কেন্দ্র করে নির্মম ও নির্লজ্জ ব্যবসার ফাঁদ পেতেছে কিছু এনজিও।
এবার রোহিঙ্গাদের মাঝে ত্রাণ বিতরণে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) সেভ দ্য চিলড্রেন ইন্টারন্যাশনাল বিরুদ্ধে। কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক কর্তৃক এনজিওগুলোর ত্রাণ বিতরণে অনিয়ম নিয়ে এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক বরাবর এক প্রতিবেদন পাঠিয়েছেন। তাতে বেশ কয়েকটি এনজিওর নাম উঠে এসেছে। এগুলোর মধ্যে হলো সেভ দ্য চিলড্রেন ইন্টারন্যাশনাল, অগ্রযাত্রা বাংলাদেশ, কাতার চ্যারিটি, আল্লামা ফজলুল্লাহ ফাউন্ডেশন, সোশ্যাল এজেন্সি ফর ওয়েলফেয়ার অ্যান্ড অ্যাডভান্সমেন্ট ইন বাংলাদেশ (ছওয়াব), প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ, নেটওয়ার্ক ফর ইউনিভার্সেল সার্ভিসেস অ্যান্ড রুরাল অ্যাডভান্সমেন্ট (নুসরা), দুস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও ইউনাইটেড সোশ্যাল অ্যাডভান্সমেন্টের (ঊষা)। এরমধ্যে সেভ দ্য চিলড্রেন এর বিরুদ্ধে খোলাবাজার থেকে ৬৫ টাকা কেজি দরে ডাল কিনে প্যাকেটে ভরে রোহিঙ্গাদের দিয়ে প্রতি কেজি ডালের প্যাকেজিং খরচ ৯৩ টাকা দেখানোর কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে!  শুধু ডাল প্যাকেটজাত করে রোহিঙ্গাদের মধ্যে ত্রাণ হিসেবে বিতরণ করে বাড়তি খরচ দেখিয়ে ১৭ লাখ টাকা পকেটে ভরেছে এই এনজিও। প্রতি রোহিঙ্গা পরিবারকে ২০০ টাকা দামের দুটি করে গামছা দেওয়ার কথা বাংলাদেশি এনজিও অগ্রযাত্রা বাংলাদেশের। কিন্তু, ৮০ টাকায় একেকটি গামছা কিনে দুই টুকরো করে দুই প্যাকেটে ভরে দুটি গামছা হিসেবে বিতরণ করছে তারা। সেভ দ্য চিলড্রেন ছাড়াও প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের তিন হাজার টাকা দামের ডিগনিটি কিট্স দেওয়ার কথা থাকলেও জেলা প্রশাসনের তদন্ত দল সরেজমিনে গিয়ে ৯০০ টাকার ডিগনিটি কিটড পায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসন থেকে ডিগনিটি কিট্স সরবরাহের ছাড়পত্র দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক। তবে নুসরা, দুস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও ঊষা সম্পর্কে বলা হয়েছে, এরা এনজিও বিষয়ক ব্যুরো থেকে কোনো ধরনের ত্রাণ সরবরাহের বরাদ্দপত্র পাচ্ছে বা কোনো ধরনের ত্রাণ সরবরাহ করছে সে বিষয়ে জেলা প্রশাসনকে কিছুই জানাচ্ছে না। ছওয়াব নামের একটি এনজিওর ১১ লাখ টাকার ত্রাণ সহায়তা দেওয়ার কথা। কিন্তু জেলা প্রশাসন থেকে সরেজমিনে গিয়ে সেখানে মাত্র চার লাখ টাকার ত্রাণসামগ্রী দেখা যায়। তখন চার লাখ টাকার ত্রাণ ছাড় করেনি জেলা প্রশাসন।
ধর্ষণ, হত্যা-নির্যাতনের মুখে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের এভাবে ঠকিয়ে রমরমা বাণিজ্য করছে অন্য এনজিওগুলোও।
এ যেন সত্যি মরার উপর খাড়ার ঘা  বাগধারাটির বাস্তব চিত্র !
অসহায় নিপীড়িত মানুষদের অন্নের টাকা পকেটস্থ করার কি নির্লজ্জ কারবার!
ত্রাণ বিতরণে দুর্নীতি এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানাচ্ছি ....।
লেখক: শিক্ষার্থী, ঢাকা কমার্স কলেজ।