হে আল্লাহ, মা-বাবাদের একটু লজ্জা দাও
০৬:০৫ অপরাহ্ন বৃহস্পতিবার, ১৮-জানুয়ারী ২০১৮

হে আল্লাহ, মা-বাবাদের একটু লজ্জা দাও

প্রকাশ : ১৯ ডিসেম্বর, ২০১৭ ১০:০৬ অপরাহ্ন

আহমেদ আরিফ: শিক্ষা হচ্ছে অন্ধকার থেকে আলোর পথে যাবার যাত্রা। বিপরীতে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়া একটি জাতিকে ধ্বংসের জন্য শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করে দিলেই সে জাতিটির মৌলিক ভিত্তি ধ্বংস করে দেওয়া যায়। আর শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করার অন্যতম ভয়ংকর উপায় হচ্ছে, শিক্ষাঙ্গনে রাজনীতি এবং শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় প্রতারণার সুযোগ করে দেওয়া। যে দুটি'র জয়-জয়কার বর্তমান বাংলাদেশে।
কলেজ, ইউনিভার্সিটি পর্যায়ের নোংরা ছাত্র রাজনীতি প্রাইমারী, মাধ্যমিক পর্যায়েও ছড়িয়ে দিচ্ছে তথাকথিত দিন বদলের সোনার ছেলেরা। অধ্যক্ষকে চ্যাংদোলা করে পানিতে ফেলে দেয়া, শিক্ষকদের গায়ে এসিড নিক্ষেপ করা, ছাত্রী ধর্ষণে সেঞ্চুরি, কলেজের হোস্টেলে অগ্নিসংযোগ, ভার্সিটির হলে গাঁজা চাষ,  চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী, নারী ধর্ষণকারী, ধর্ষণের দৃশ্য ধারণ করে ভিডিও করা সহ নানা অপকর্মে জড়িত গাঁজা, হেরোইন, ইয়াবাসেবী ছাত্রলীগ 'বঙ্গবন্ধুর আদর্শ'  স্কুলে পৌছে দেওয়ার নামে মাধ্যমিক স্কুলেও নোংরা ছাত্র রাজনীতি প্রবেশ করিয়ে দিয়েছে!
আর পরীক্ষায় প্রতারণা? শিক্ষা ব্যবস্থার ক্যানসার 'প্রশ্নপত্র ফাঁস'। পিএসসি, জেএসসি, এসএসসি, এইচএসসি, বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা কিংবা বিভিন্ন সরকারী প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ পরীক্ষা থেকে শুরু করে সব পরীক্ষার প্রশ্নই ফাঁস হওয়াটাই এখন স্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে । বাকী ছিল প্রাইমারী স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস ! প্রাইমারী স্কুলের পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়ে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ষোলকণা পূর্ণ হয়েছে। জ্বী পাঠক, এখন ক্লাস ওয়ান থেকে ক্লাস ফাইভের প্রশ্নপত্রও ফাঁস হচ্ছে!
প্রশ্ন ফাঁসের কারণে বরগুনার বেতাগী উপজেলায় ১৪০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম থেকে চতুর্থ শ্রেণির গণিত পরীক্ষা স্থগিত (সূত্র- শীর্ষ নিউজ,১৬/১২/১৭)। প্রাইমারী স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস- একটি দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য এর চাইতে বড়  লজ্জা আর কি হতে পারে? শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে এই প্রশ্ন রাখাটা স্রেফ গর্দভের কাজ হবে। নিজেকে গর্দভের পর্যায়ে নামাতে ইচ্ছা করছেনা। কারণ,  শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে যারা আছেন তাদের ন্যূনতম বিবেক কিংবা লজ্জাবোধ আদৌ আছে কিনা এইসব নিয়ে বাক্য অপচয় করাটা অর্থহীন, সময়ের অপচয়।
ক্ষমতা, অর্থলোভী লজ্জাহীনরা কখনোই লজ্জা বোধ করেনা। কিন্তু বাংলাদেশের মা-বাবাদের কি হল? কিভাবে বাংলাদেশের মা-বাবারা এমন লজ্জাহীন হয়ে গেল?
যে বাবারা পরীক্ষার আগে হুংকার দিয়ে বলত 'যদি নকল করে কোন কেলেংকারি করিস ঘর থেকে বের করে দেব'। আর এখন সে বাবারা ফাঁস হওয়া প্রশ্ন কিনতে সন্তানকে টাকা দিচ্ছে! ভার্সিটি, মেডিকেল পরীক্ষার প্রশ্নের জন্য লাখ লাখ টাকা সন্তানের হাতে তুলে দিচ্ছেন বাবারা! যে মায়েরা টিচারদের বলত ' স্যার, মাংস আপনার, হাড্ডি আমার। তবু যেন সন্তান মানুষ হয়' সে মায়েরাই পরীক্ষার কেন্দ্রের বাইরে সন্তানের খাতায় লিখে দিচ্ছে! আজকালকার মা-বাবারা সন্তানের পরীক্ষার আগে মুরব্বীদের কাছে দোয়া চাওয়ার জন্য পাঠায় না। পাঠায় ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্র আনতে কিভাবে নিজের কিশোর সন্তানকে স্কুল রাজনীতির কমিটিতে স্থান দেবার জন্য দেন-দরবার করছেন অভিভাবকরা? কেন এই মানসিক দৈন্যতা?
একটি দেশের সরকার নীতি, নৈতিকতা বিসর্জন দিতে পারে ক্ষমতার লোভে। কিন্তু, মা-বাবারা কিভাবে নীতি, নৈতিকতার বিসর্জন দেয়? যে অভিভাবকরা সন্তানকে সৎ পথে চলার পরামর্শ দিবেন সে অভিভাবকরাই সন্তানকে অসৎ পথের পাঠ দিচ্ছেন? অভিভাবকদের এই লজ্জাহীনতা সন্তানকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে এই প্রশ্নটি কি অভিভাবকদের বিবেককে একবারও কড়া নাড়ছে না?
জানি, কোন সমালোচনাই ক্ষমতালোভী বিবেক বর্জিত সরকারকে স্পর্শ করবেনা। যদি করত তাহলে ক্লাস ওয়ানের বার্ষিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হতনা। বাকী আছে পথ একটাই। আর সে পথটি হচ্ছে, আল্লাহর কাছে মা-বাবাদের লজ্জাবোধ দান করার প্রার্থনা করা।
হে আল্লাহ, মা-বাবাদের তুমি একটু লজ্জা দাও। মা-বাবাদের মাঝে এই বোধটুকু জাগিয়ে দাও যে, সন্তানকে ফাঁস হওয়া প্রশ্ন কিনে দিয়ে, ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্রের ব্যবস্থা করে, সন্তানের পরীক্ষার খাতায় লিখে দিয়ে তারা নিজের সন্তানেরই ক্ষতি করছেন।
শীর্ষনিউজ২৪ডটকম/ইই